সাটুরিয়া সৈয়দ কালু শাহ কলেজ মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্মানিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ অঞ্চলের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ ও সমাজসেবকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উচ্চশিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে কলেজটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই কলেজটি শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে একটি আদর্শ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে ওঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে কলেজটি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় জনগণের আস্থা, শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং শিক্ষকদের নিষ্ঠার ফলে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত অগ্রগতি লাভ করে। ক্রমবর্ধমান শিক্ষার চাহিদা ও এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পরবর্তীতে কলেজটিকে ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত করা হয়। ২০০৪ সাল থেকে এটি পূর্ণাঙ্গ কলেজ হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
পরবর্তীকালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির মাধ্যমে কলেজে ডিগ্রি পাস ও অনার্স কোর্স চালু করা হয়। বিভিন্ন বিভাগে পাঠদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এবং ডিগ্রি ও অনার্স পর্যায়ে একাধিক বিষয়ে নিয়মিত পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে।
সাটুরিয়া সৈয়দ কালু শাহ কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই রাজনীতি ও অসুস্থ কর্মকাণ্ডমুক্ত একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সুপরিচিত। এখানে শৃঙ্খলা, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে কলেজটি শুধু একাডেমিক ফলাফলের জন্যই নয়, বরং চরিত্রবান ও দায়িত্বশীল নাগরিক গঠনের ক্ষেত্রেও প্রশংসিত হয়ে আসছে।
সময়ের সাথে সাথে কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ, গ্রন্থাগার সুবিধা এবং একাডেমিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতার ছোঁয়া যুক্ত হয়েছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দের নিরলস প্রচেষ্টা ও পরিচালনা পরিষদের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটি আজ মানিকগঞ্জ জেলার একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
আজ সাটুরিয়া সৈয়দ কালু শাহ কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি একটি স্বপ্নের নাম, একটি ঐতিহ্যের প্রতীক। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বহু শিক্ষার্থী দেশ ও সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে। ভবিষ্যতেও এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের ধারক ও বাহক হিসেবে এগিয়ে যাবে—এই প্রত্যাশাই আমাদের।
